পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি জানাতে পারবেন অধস্তনরা!

পুলিশের সব ইউনিটে নির্দেশনা যাচ্ছে আজ…

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

এখন থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন অধস্তন পুলিশ সদস্যরা। এজন্য সেই সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক বা হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। পুলিশের সব ইউনিটে আজ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করছে সদর দপ্তর। গতকাল রবিবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় অনুমোদন করেছেন বলে জানা গেছে।

নির্দেশনার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘(ক) জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রধান) আইন, ২০১১ এবং (খ) জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) বিধিমালা, ২০১৭ প্রতিপালন প্রসঙ্গে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ নির্দেশনার ফলে একজন কনস্টেবলও পুলিশ সুপার (এসপি), ডিআইজি বা তারও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত কর্র্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন।

তবে কেউ যদি হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বা অসৎ উদ্দেশ্যে কাউকে ঘায়েল করার জন্য অভিযোগ দেয় তদন্তে তা প্রমাণিত হলে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও চাকরিচ্যুতিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

একাধিক পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ইউনিটপ্রধান বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে থাকেন অধস্তন পুলিশ সদস্যরা। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি অনিয়মের বিষয়গুলো সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। তাই ওই পুলিশ সদস্য নির্বিঘে্ন রেঞ্জ ডিআইজি বা ঊর্ধ্বতন উপযুক্ত কর্র্তৃপক্ষের কাছে ওই তথ্য তুলে ধরতে পারবেন। তাই তারাও বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডিপ্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবিরোধী যেকোনো তৎপরতাকে আমরা সবসময় স্বাগত জানাই। বর্তমান আইজিপি দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।

আমি আমার ইউনিটকেও বলেছি দুর্নীতি অনিয়ম করলে কেউ রেহাই পাবে না। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (মিডিয়া) মো. হায়দার আলী খান বলেন, এ সংক্রান্ত বিধিমালা আগেই বলবৎ রয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে বিষয়টি প্রতিপালন করা সবার কর্তব্য।

জানা গেছে, পুলিশে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে কনস্টেবল, এএসআই ও এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তারা কাজ করেন। বিশেষ করে তাদের গাড়িচালক, আর্দালি, পিয়ন পদে কনস্টেবলরা কাজ করেন। এসব কনস্টেবল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেক দুর্নীতি, অনিয়মের তথ্য জানতে পারেন। কিন্তু চাকরি যাওয়ার ভয়ে তারা কারও কাছে মুখ খোলেন না। আবার অনেকে সরকারি বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে বাজার করানো, বাসার কাজ করানো থেকে শুরু করে বহুবিধ ব্যক্তিগত কাজ করান। এতে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে একধরনের হতাশা দেখা দেয়। কনস্টেবল বা নিম্নপদের কর্মকর্তারা চাকরি হারানোর ভয়ে মুখবুঝে এসব সহ্য করেন। এ নির্দেশনার ফলে তারা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। সত্য অভিযোগ জানালে কাউকে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, ‘জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য প্রদান ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় উল্লেখপূর্বক ‘(ক) জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রধান) আইন, ২০১১ এবং (খ) জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) বিধিমালা, ২০১৭ বিদ্যমান রয়েছে। আইন ও বিধিমালায় সরকারি অর্থের নিয়মিত ও অননুমোদিত ব্যয়, সরকারি সম্পদ অব্যবস্থাপনা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য প্রকাশের বিষয়ে তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা বিষয়ে নির্দিষ্ট ফরমে সংরক্ষণের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। যার মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতসহ দুর্নীতি বন্ধ হবে। ’

আইন ও বিধিমালায় কোনো তথ্য প্রকাশকারী উপযুক্ত কর্র্তৃপক্ষের নিকট, যুক্তিযুক্ত বিবেচনায়, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করলে, উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ব্যতীত, তার পরিচিতি প্রকাশ না করা এবং তথ্য প্রকাশকারীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোনো বিভাগীয় মামলা দায়ের না করার বিধান রয়েছে। এছাড়া তথ্য প্রকাশকারী কোনো চাকরিজীবী হলে তাকে পদাবনতি, হয়রানিমূলক বদলি, বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণ ও বৈষম্যমূলক আচরণ করাসহ তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা, মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করার দণ্ড, ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ, তদন্ত ও আইনানুগ কার্যক্রম, পুরস্কার বা সম্মাননা প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।

এ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা ইউনিটপ্রধানদের নিজ নিজ ইউনিটের সব সদস্যকে অবহিত করে পুলিশ সদর দপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছে।

সুত্র: দেশ রূপান্তর

মতামত