চাঁদাবাজি ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে নামধারী পাঁচ সাংবাদিক আটক

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

রাজধানীর উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে গাড়ী ভাংচুর, চাঁদাবাজি ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে নামধারী পাঁচজন সাংবাদিককে আটক করেছে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ। এ সময় একজন নারীসহ আরো দুই জন পালিয়ে গেছে।

আব্দুল্লাহপুরের বেড়িবাঁধে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে। পরে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আটককৃতরা হলেন, সাপ্তাহিক উত্তরা বাণী পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ফারুক আহমেদ, দৈনিক এই বাংলা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জামা আক্তার মিতু ওরফে ঝর্ণা, ক্রাইম পেট্রোল বিডির ইনভেস্টিগেটিভ করোসপন্ডেন্ট সাখাওয়াত হোসেন ও করোসপন্ডেন্ট ওজিউল্লাহ খোকন এবং ঢাকা টিভির ক্যামেরাম্যান মো. বিপ্লব।

থানা পুলিশ ও হা-মিম গার্মেন্টসের শ্রমিকরা জানায়, টঙ্গীর হা-মিম গার্মেন্টস থেকে শ্রমিক নিয়ে আলম এন্টারপ্রাইজ পরিবণের ঢাকা মেট্রো ব- ১১-৫৭৭১ নম্বরের একটি বাস তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তার হেড অফিসের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যেই আব্দুল্লাহপুর আসা মাত্রই খন্দকার সিএনজি পাম্প থেকে একটি মাইক্রোবাস বের হয়। ওই মাইক্রোবাসে সাংবাদিক নামধারী আট জন ছিলেন। বাস মাইক্রোবাসটিকে সাইড না দেয়ায় মাইক্রোবাস থেকে নেমে নামধারী সাংবাদিকরা ইট দিয়ে দরজার জানালা ভেঙ্গে ফেলে। পরে হেলপার নুর উদ্দিনকে তারা টেনে হেচড়ে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করে। এ সময় বাসে থাকা হা-মিম গ্রুপের অন্যান্যরা মারামারি ছোড়াতে গেলে তাদেরকে মারধর করা হয়। আহত বাকিরা হলেন, বিল্লাল ও মিলন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

আহত বিল্লাল বলেন, আমরা টঙ্গীর হা-মিম গার্মেন্টস থেকে বাসে করে তেজগাঁওয়ের হেড অফিসে যাচ্ছিলাম। পথে আব্দুল্লাহপুরে আসা মাত্রই একটি মাইক্রোবাস আমাদের বাসের সামনের এসে ব্রেক করে বলতে থাকে যে, সাইড দিলি না কেন? তোদের বাসে অবৈধ মালামাল আছে। টাকা না দিলে তোদের খবর খারাপ করে দিব।

তিনি বলেন, এই বলিয়া বাসের হেলপারকে টেনে হেচড়ে আব্দুল্লাহপুর বেড়ীবাঁধের উপর নিয়ে মারধর শুরু করে দেয়। পরে যারা ছোড়াইতে গেছে তাদেরকেও মারধর করা হয়।

অপর একজন বলেন, ওই মাইক্রোবাসে ৮ জন ছিল। তাদের মধ্যে ঝর্ণা নামের একজন নারী সাংবাদিক হেলপাড়ের শার্টের কলার ধরে বলে- ‘আমি ধরছি এবার তোরা মার।’ এ সময় কয়েকজন হেলপারকে ধরে মারধর করতে থাকে, একজন মোবাইলে ক্যামেরা করতে থাকে ও আরেকজন ক্যামেরা নিয়ে ভিডিও করতে থাকে। এ সময় ওই নারীর ভয়ে হেলপারকে তাদের কাছ থেকে ছাড়ানোর সাহসও পায়নি কেউ।

এদিকে আটক হওয়া কথিত সাংবাদিক জামা আক্তার মিতু ওরফে ঝর্ণা বলেন, ওই বাসে থাকা লোকজন তার গলার চেইন ছিড়ে নিয়ে গেছে। তার জামাকাপড় টেনে ছিড়ে ফেলেছে।

এদিকে মামলার বাদী হা-মিম গ্রুপের কর্মচারী জাকির হোসেন এজাহারে উল্লেখ করেন, নামধারী সাংবাদিকরা তাদেরকে মারধর করে ২১ হাজার টাকা মূল্যের দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা পাঁচ জনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। কিন্তু ইফতেখার ও সুমি নামের আরো দুই জন কৌশলে মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে থানা পুলিশ জানায়, পলাতক ইফতেখার ও সুমিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে উত্তরা বিভাগে কর্মরত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মকর্তারা জানান, উত্তরায় এমন কিছু সাংবাদিক আছেন, যারা টাকা ছাড়া কোথাও পা দেন না। আগে লাভের চিন্তা করেন, পরে পা রাখেন। কোথাও কোন ঘটনা ঘটলে তাদেরকে পাওয়াই যায় না। কিন্তু তারা গ্রুপে গ্রুপে বের হয়ে কোথায় বেকারী, কোথায় ইটভাটা, কোথায় ভবন নির্মাণ হচ্ছে, ওয়াসা বা গ্যাসের লাইন নেয়া হচ্ছে, কোথায় ফুটপাত, ফারাম আছে তা খুঁজে বের করে সেখানে গিয়ে চাঁদাবাজি করে।

তারা আরো বলেন, এসব কথিত সাংবাদিকদের আবার কেউ কেউ মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িত, আবার কেউ কেউ দেহ ব্যবসা করেন। শুধু তাই নয়, ওই সব কথিত পত্রিকার সম্পাদকরাও টাকার বিনিময়ে কার্ড বিক্রি করে দেদারছে চলছেন। আবার তারা কার্ড দেয়ার বিনিময়ে ওই সব নামধারী সাংবাদিকদের কাছ থেকে মাসোহারাও খাচ্ছেন। এতেই সীমাবদ্ধ নয়, কোথাও নিউজের ভয়ভীতি, হুমকি-ধামকি দেখিয়ে টাকা আদায় করতে পারলে, সেই টাকার অর্ধেক ভাগও নিয়ে নেন তারা।

এ বিষয়ে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) তাপস কুমার দাস বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া কথিত সাংবাদিকরা উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে পাবলিকের সাথে মারামারি করছিল। আবার লাইভ করতেছি, লাইভ করতেছি বলে ক্যামেরা ও মোবাইল ধরে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। তখন সেখানে ২০০/২৫০ জনগণ জমে গেছিলো। তারাই ধরে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতার মাধ্যমে জনমনে ভীতি ত্রাস সৃষ্টি করে গাড়ী ভাংচুর করে চাঁদা দাবি ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নম্বর-২০(৪)২১।

মতামত