বন্যায় ধ্বসে গেছে সাতকানিয়ার রামপুর ডিসি সড়ক-যোগাযোগ বিছিন্ন ৪দিন ধরে

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের বুক চিরে লোহাগাড়া উপজেলা ও বাশখালী উপজেলায় যে সড়কটি যাতায়াতের সংযোগ বহন করেছে তার নামই রামপুর ডিসি সড়ক । গত ১জুলাই বৃহস্পতিবারের বন্যায় সোনাকানিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে সড়কটি ধবসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সোনাকানিয়া, বড়হাতিয়া, মার্দাশা, এওচিয়া, পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ।

গত ১লা জুলাই রাতের যেকোন সময়ের দিকে সড়কের পিচ ঢালাই ও মাটি ধ্বসে বিলীন হয়ে গেলে স্থানীয় মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ নির্মানকাজে অনিয়মের জন্য আজ এ অবস্থা। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত নির্মানকারীদের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত রাস্তাটি ভেঙ্গে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় লোকজন জানান,উপজেলার রামপুর ডিসি সড়কের সোনাকানিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনের সড়কটি পুরান আমলে যখন মাঠির ছিল ইউনিয়নের জমাদার পাড়া,তাতী পাড়া ও দক্ষিন কালামিয়ার পাড়ার পানি যাতায়াতের জন্য রাস্তার নিচে ছোট একটি পুল ছিল। পরবর্তীতে ওই স্থানে একটি কালভার্ট বসানো হয়। কয়েক মাস আগে রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য ঐ কালভার্টটি ভেঙ্গে যায়। তখন কালভার্টটি নির্মানের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্ধ আসে ২লক্ষ ৯হাজার ৭৬০ টাকা। তখন ঐ টাকার বিনিময়ে ১গাড়ী ইট,১গাড়ী বালি ও ২৫০০ টাকা মজুরি খরচ দিয়ে লোক দেখানোভাবে কোন প্রকারে কাজ করে চলে নির্মানকারীরা। গত ১জুলাই বৃহস্পতিবারের বন্যায় কালভার্টটি ধ্বসে যায়। যার ফলে রাস্তার পার্শ্ববর্তী তাতী পাড়ার অনেক পানিতে তলিয়ে যায়।যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ে সাতকানিয়র সোনাকানিয়া ইউনিয়নের সাথেসাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাশখালী উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের সাথে। আজ ৪দিন অতিবাহিত হলেও এই রাস্তা ভাঙ্গার কোনো সুরাহা এখনো হয়নি।

গত ৪ জুলাই সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রামপুর ডিসি সড়কের সোনাকানিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনের সড়কটির পিচ ঢালাই,জমানো পুল ও মাটি ধ্বসে গিয়ে সম্পুর্ন যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেছে। দূর্ঘটনা এড়াতে ধ্বসে যাওয়া স্থানের মাঝে কয়েকেটি গাছের ছোট ছোট ডাল দেয়া হয়েছে।

উপজেলার সোনাকানিয়া ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আইয়ুব জমিদার বলেন, ৪দিন হয়ে গেল কালভার্টসহ রাস্তাটি ভেঙ্গে গেছে। অথচ দেখার কেউ নেই। কিছুদিন আগে ওই স্থানে ভাঙ্গলে চেয়ারম্যানের পক্ষ হয়ে আনিছুল হক বাবুল নামে এক ব্যাক্তি ৭২হাজার টাকার কাজ করেছিলেন বলে শুনেছি। এরপর একটি সাইনবোর্ড দেখলাম ২লক্ষ ৯হাজার ৭৬০ টাকার প্রকল্প। এরপর আবার ধবসে গেলে আমি ১গাড়ী ইট,১গাড়ী বালু ও ২৫০০টাকা মজুরি খরচ দিয়ে মেরামত করে দিই। গত ১জুলাই এর সৃষ্ট বন্যায় ওই স্থানে আবার ধবসে গিয়ে রাস্তার যোগাযোগ সম্পুর্ন বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। জনসাধারণের সুবিধার জন্য অতি দ্রুত কাজটি করার জন্য র্উধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ সারওয়ার হোসেন বলেন, উক্ত সড়কটি আমার এখতিয়ারে নয়। এটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের।

এব্যাপারে দোহাজারি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশরি সুমন সিংহ এর নিকট পিচ ঢালাই সড়ক ও কালভার্টটি ধ্বসে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন,খবর পেয়ে স্পটটি একজন সহকারি প্রকৌশলি দ্বারা পরিদর্শন করা হয়েছে।ওই স্থানে অতি দ্রুত একটি কালভার্ট নির্মান করা হবে।

 

 

 

মতামত