ব্যক্তিগত আক্রোশে রোকেয়ার ঝুপড়ি ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দিলেন ইউএনও

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

দীর্ঘ নয় বছর ধরে সরকারি খাস জমিতে বসবাসকারী বিধবা রোকেয়া খাতুন-এর ঝুপড়ি ঘরটি ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ইসমাইলপুর গ্রামে এই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে।

রোকেয়া অভিযোগ করেন, ১০/১২ জন লোক স্থানীয় ভূমি অফিসার মোহাম্মদ আলী’র নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কায়দায় তাঁর বাড়িটি ভেঙে দিয়েছে।

ইসমাইলপুর গ্রামের সাবুর আলী’র বিধবা স্ত্রী রোকেয়া খাতুন তাঁর ঘর গুড়িয়ে দেওয়ার জন্য শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজার গিফারীকে দায়ী করেছেন।

তিনি জানান, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ইউএনও তাঁর ঘরটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ তার আশপাশে আরও অনেক দরিদ্র পরিবার খাস জমিতে বসবাস করলেও তাঁরা নির্বিঘ্নে রয়েছেন।

রোকেয়া বলেন, আমি ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করতাম। কিছুদিন আগে আমার করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তিনি আমাকে বাড়ি থেকে চিকিৎসা নিতে বলেন। এই কারণে আমি বাড়িতেই ছিলাম এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছি। এরমধ্যে ইউএনও নিজেই করোনা আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। তাকে সেবা দেওয়ার জন্য আমাকে সেখানে যেতে বলা হয়। কিন্তু আমি করোনার ভয়ে এবং আমার একমাত্র মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে ইউএনওকে সেবা দিতে যেতে চাইনি। এতেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।

রোকেয়া আরও বলেন, দুদিন আগে আমি কাজের জন্য ইউএনও’র বাসায় গেলে আমাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

রোকেয়া জানান, কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই আজ সকালে ভূমি অফিসার মো. আলীর নেতৃত্বে একদল লোক দা, কোদাল, শাবল নিয়ে আমার ঘরটি ভেঙেচুরে দিয়ে যায়। আমার কোন অনুরোধও তারা শোনেনি। ওই ঘরে আমার দিনমজুর মেয়ে ও জামাই থাকতো। তারা এখন আশ্রয়হীন হয়ে পড়লো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি অফিসার মো. আলী বলেন, রোকেয়া’র নামে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি গৃহ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারপরও তিনি সরকারি খাস জমির একাংশ দখল করে ছিলেন। এজন্য তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এর আগে তাঁকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি স্বীকার করে তিনি বলেন, রোকেয়া’র ঘর থেকেই উচ্ছেদ শুরু করা হলো।

শ্যামনগর ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হায়দর বাবু বলেন, করোনার সময় মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে উচ্ছেদ করা একটি অমানবিক বিষয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজার গিফারী বলেন, রোকেয়া’র প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশের কোনো সুযোগ নেই। করোনাকালে কোনো বাড়িতে গৃহকর্মীর থাকাটাও নিরাপদ নয়। তাছাড়া সরকারি জমি উদ্ধার একটি চলমান প্রক্রিয়া। রোকেয়াকে তাঁর বসবাসের জন্য আগেই একটি গৃহ দেওয়া হয়েছে। তিনি বাড়তি জমিতে থাকার কারণে আমরা ভেঙে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আশপাশের আরও খাস জমি দখলকারীদের পর্যায়ক্রমে সরিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের নতুন নতুন ঘর তৈরী করা হবে।

BV News 24

মতামত