৫৫ বছরের দাদির সঙ্গে ২১ বছরের নাতির বিয়ে হল পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে!

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিধবা দাদির সঙ্গে ৫ লাখ টাকা কাবিনে নাতির বিয়ে হয়েছে। সোমবার রাতে এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত ছামছুদ্দিন ওরফে শামের স্ত্রী শিরীনা আক্তারের (৫৫) সঙ্গে প্রতিবেশী আব্দুর রশিদের পুত্র ফারুক মিয়ার (২১) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের সম্পর্ক দাদি-নাতি। দাদার মৃত্যু পর থেকে দাদি ও নাতির মধ্যে গোপন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে স্থানীয়দের এলাকাবাসীর মধ্যে নানা কানাঘুষা চলছিল ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে ফারুক হোসেনের সঙ্গে চাচাতো দাদি শিরিন আক্তারকে আপত্তিজনক অবস্থায় ধরে ফেলেন শিরিন আক্তারের ছেলে এনামুল মিয়া। বিষয়টি হাতেনাতে ধরার পর এনামুল মিয়া এলাকার লোকজন ডেকে বিষয়টি জানান।

পরদিন শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিসে বসে নাতি ফারুক হোসেনের সঙ্গে দাদি শিরিন আক্তারের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের সিদ্ধান্ত হওয়ার পরেই নাতি পালিয়ে যান। তারপর এলাকাবাসীরা দাদি শিরিনকে ওই ফারুক মিয়ার বাড়িতে তুলে দিয়ে আসেন।

একদিন পালিয়ে থাকার পর রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ফারুক বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ওই দিন আবারও স্থানীয়রা সালিসের মাধ্যমে সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) নাতি ফারুক হোসেনের সঙ্গে দাদি শিরিন আক্তারের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ৫ লাখ টাকা কাবিনে দাদির সঙ্গে নাতির বিয়ে হয়।

দাদি-নাতির বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়হিত ইউনিয়নের বিয়ের রেজিস্ট্রি কাজে নিয়োজিত কাজী মোহাম্মদ নুরুল্লাহ বলেন, নওপাড়া গ্রামে পাঁচ লাখ টাকার দেনমোহরে তাঁদের বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ে পড়াতে গিয়ে জানতে পেরেছি, নতুন দম্পতি সম্পর্কে দাদি-নাতি।

আজ মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে ওই গ্রামে গিয়ে নতুন দম্পতিকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তরুণের পরিবারের অভিযোগ, এলাকার ইউপি সদস্য খাইরুল ইসলামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিসের মাধ্যমে জোর করে এই বিয়ে দেন। এই বিয়েতে ওই নারী রাজি ছিলেন না।

এ বিষয়ে ১১ নং বড়হিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। বিয়ে হয়েছে কিনা তাও বলতে পারব না। কারণ আমি বেশ কয়েক দিন যাবৎ অসুস্থ।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাদির মিয়া বলেন, ‘দাদি-নাতির বিয়ের বিষয়ে আমি অবগত নই।

মতামত