আমি তখনিই খুশি হবো আমার রাজকন্যা যদি সুখি হয়: মোহাম্মদ আবুল মনজুর

আমি তখনিই খুশি হবো আমার রাজকন্যা যদি সুখি হয়

লেখকঃ মোহাম্মদ আবুল মনজুর

আমার মেয়ে যদি বড় হয়ে একজন ডাক্তার হয় তখন আমি খুশি নয়। আমার রাজকন্যা বড় হয়ে যদি ১জন জজ-ব্যারিষ্টার ও হয় তখনো আমি খুশি নয়…

আমার রাজকন্যা বড় হয়ে যদি ১ জন টিভি রিপোর্টার কিংবা নামকরা কোন পত্রিকার সাংবাদিক ও হয় তখনো আমি খশি নয়…

আমার রাজকন্যা বড় হয়ে যদি কোন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কিংবা স্কুলের শিক্ষক ও হয় তখনো আমি খুশি নয়…

আমার অতি আদরের কন্যা বড় হয়ে যদি ১জন নামকরা রাজনীতিবিদ ও হয় তখনো আমি খুশি নয়…

আমার রাজকন্যা বড় হয়ে যদি মা-বাবার স্বপ্ন
সার্থক করে… মা-বাবার এতোদিনের আশাকে পূরণ করে তখনো আমি খশি নয়….

আমি তখনি খশি হবো যখন আমার অতি আদরের রাজকন্যা বড় হয়ে বিখ্যাত কোন
কিছু না হয়েও, আমাদের স্বপ্ন পূরণ না করেও যদি আমার মেয়েছি নিরাপদে থাকে…

যদি আমার মেয়েটি অন্যের কু-দৃষ্টি থেকে হেফাজতে থাকে… যদি আমার মেয়ে পর্দায় থাকে… যদি আমার মেয়েটি দুনিয়ার হিংস্রতা থেকে মুক্ত থাকে… কেবলমাত্র তখনি আমি খুশি হবো…

আমার মেয়েটাকে শিশুকাল থেকে বিয়ের আগ আগ পর্যন্ত শর্ত অভাব-অনটন এবং কষ্টের মাঝেও লালন-পালন পড়ালেখা এবং ভরণ-পোষন করতে আমার কখনো কষ্ট হয়নি।

বাবা-মায়ের মনে কষ্ট তো তখনি লাগে… বাবা-মায়ের হৃদয়ে আঘাত্ তো তখনি লাগে… বাবা-মায়ের হৃদয়ের বুকফাটা আর্তচিৎকার তখনিই আসে, যখন বাবা-মায়ের অতি আদরের রাজকন্যাটিকে বড় করে চোখের জল লুকিয়ে একটা অচেনা-অজানা পরিবারে পাঠাতে হয়।

বাবা-মায়ের মনে কষ্টের আগুন তো তখনি জ্বলে উঠে যখন অন্যের বাড়িতে আমার মেয়েটি কষ্টে থাকে। আমার রাজকন্যা সুখে থাকার জন্য, আমার রাজকন্যাকে সুখে রাখার জন্য মুখে কিছু বলতে না পারলেও বাবা-মায়ের চোখ থেকে অশ্রু তো তখনি ঝরে যখন অন্যের বাড়িতে আমার আদরের রাজকন্যাটি স্বামী-শ্বশুর-শ্বাশুড়ি কিংবা শ্বশুর বাড়ির লোকজন দ্বারা প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হয় প্রতিনিয়ত রক্তাক্ত হয়…

শ্বশুর বাড়ির সবাই যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন থকে তখন আমার মেয়েটিকে দরজা বন্ধ করে চোখের জলে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়… বাবা-মায়ের কাছে এর চেয়ে কষ্ট পৃথিবীতে আর কিছু নাই আমার মনে হয় প্রতিটা রাজকন্যার…

বাবা-মায়ের মন তখনি শান্তি পায়- মেয়েটি শ্বশুর বাড়িতে শান্তিতে আছে যখন দেখে তার আমার মনে হয় প্রতিটা রাজকন্যার বাবা-মায়ের মুখে হাসি তখনি ফটে যখন দেখে তার অতি আদরের কন্যাটি অন্যের বাড়িতে খেতে পারুক আর না পারুক, দুঃখে কিংবা কষ্টে, পাওয়া আর না পাওয়ার মাঝেও বাবা-মায়ের অতি আদরের কন্যাটি পরম যত্নে থাকে…

শত কষ্টে শত অভাবেও যে বাবা-মায়ের রাজকন্যাটি শ্বশুর বাড়িতে শ্বশুর বাড়ির লোকজন দ্বারা কখনো নির্যাতিত হবে না সেই রাজকন্যার বাবা-মায়ের মতো সুখী এই পৃথিবীতে আমার মনে হয় কেউ নেই, মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা প্রতিটা মেয়ে যেমন বাবা-মায়ের কাছে রাজকন্যা হয়ে থাকে তেমনি বাবা-মায়ের অতি আদরের রাজকন্যাটি যেন অন্যের বাড়িতে রাজকন্যা হয়ে না থাকুক যেনো সারাজীবন হাসি-খুশি থাকে সুখে থাকে এবং শান্তিতে থাকে…. স্বামী কিংবা শ্বশুর বাড়ির লোকজন দ্বারা যেনো কখনো নির্যাতিত না হয়…

এটা একটি রাজকন্যার পিতা হিসেবে আমার অনুভূতি….

মতামত