বাঙালীয়ানায় পিঠাপুলি উৎসবে মেতেছে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

কক্সবাজার শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় পাওয়া সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, বিপন্ন, ঝুঁকিতে থাকা, পথ শিশুদের নিয়ে পিঠাপুলি উৎসব, শিশু বরণ এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এর আয়োজন করা হয়েছে। গত ১লা মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬.৩০ টায় কেন্দ্রের অস্থায়ী মঞ্চ ‘নিভৃতে নিসর্গে’ এ আয়োজন করা হয়।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মিলনমেলায় শীতকালীন সাঁঝবেলায় বৈচিত্রময় উক্ত পিঠা উৎসব উপভোগ করতে প্রধান অতিথি কক্সবাজার সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় ফিতা কেটে ‘হিমছড়ি প্রবেশদ্বার’ অতিক্রম করেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো: শাহজাহান আলী এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সহধর্মিণী মিতালী সরকার। এছাড়া কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার এর সভাপতিত্বে এবং ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর সন্তোষ কুমার চক্রবর্ত্তীর সঞ্চালনায় উৎসব মুখর পরিবেশে ব্যতিক্রমী আমেজে কেন্দ্রে আশ্রয় পাওয়া সুবিধাবঞ্চিত নিবাসী শিশুদের ফুল দিয়ে বরণ করেন অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ। শিশু বরণ শেষে প্রধান অতিথি সহ উপস্থিত সকলেই আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয়, উপভোগ্য এবং জমজমাট পিঠাপুলির সমাহারে সজ্জিত স্টল পরিদর্শন করেন।

শীতের মৌসুমে কেন্দ্র প্রাঙ্গনে বাঙালীয়ানার পসরা ‘দরিয়ানগর পিঠাশালায়’ ঠাঁই পেয়েছে গ্রাম বাংলার ৬৫ রকম বাহারী স্বাদের পিঠাপুলি। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ভাপা পিঠা, ঝোল ভাপা পিঠা, ইলিশ ভাপা পিঠা, ভাপা পুলি পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, মালপোয়া পিঠা, চুটকি পিঠা, হাতের সেমাই পিঠা, চুই পিঠা ও তিলের পায়েস, আতিক্কা পিঠা, মোমো পিঠা, খোলা পুলি পিঠা, ঝাল পুলি পিঠা, কলা পুলি পিঠা, দুধ চিতই পিঠা, ভর্তা চিতই পিঠা, ডিম চিতই পিঠা, রস পাটিসাপটা পিঠা, রসপোয়া পিঠা, সুজির রস ভরা পিঠা, সাবু দানার ক্ষীর পিঠা, কুলফি/কাঁঠাল পিঠা, পাতা পিঠা, পেঁপের মোরব্বা পিঠা, পাকন পিঠা, বিবিখানা পিঠা, আনতাসা পাকন পিঠা, ফুলকপির পাকোড়া পিঠা, ছিটা পিঠার সাথে হাসের মাংসের কালিয়া, ঝিনুক পিঠা, চিরুনি পিঠা, পাতা পিঠা, গোলাপ পিঠা, সাবু দানার পাপড় পিঠা, সিরিঞ্জ পিঠা, ধুঁপ পায়েস পিঠা, হৃদয় হরণ পিঠা, ফ্লাওয়ার সমুচা, ডিমের পানতুয়া পিঠা, ডিম পেস্ট্রি পিঠা, ফিস ফিঙ্গার, ডেনিশ কিমা পিঠা, কদম ফুল পিঠা, খেজুর রসের বড়া পিঠা, লবঙ্গ লতিকা পিঠা, সাবুদানার পায়েস, কলাপুর পিঠা, বিন্নি কলা পিঠা, কালাই রুটির সাথে খাসির রেজালা, আলুর পরোটা, চিনিগুড়া চালের রুটির সাথে দেশী মুরগির ঝোল, সুজির বিস্কুট পিঠা, ডনেট পিঠা, বিবি খানা পিঠা, সাজ পিঠা, বিন্নি পাটিসাপটা পিঠা, বরিশালের পাক্কন পিঠা, বেসনের পাপড়, গাজরের বরফি, লালমোহন মিষ্টি, ঝাল চিতই পিঠা, ভাজা মোমো পিঠা, রসুন পুলি পিঠা,
ডিম চিতই এর বড়া পিঠা, চুটকির জর্দা, বাহারী ধরণের টক-ঝাল, পান-সুপারি ইত্যাদির সংযোগে কেন্দ্রের পরিবেশে মৌ-মৌ রেশ ছড়িয়ে পড়ে।


দ্বিতীয় পর্বের আয়োজনে শিশুতোষ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত সকলকেই আবেগাপ্লুত করে তুলে। বাঙালী ঐতিহ্য এবং সেইসাথে কক্সবাজার জেলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও পরিচিতি তুলে ধরার প্রসায় ছিল আয়োজনের সমগ্রজুড়ে।

কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার জানান – মূলত নতুন বছর উপলক্ষে শীতের মৌসুমে কেন্দ্রের নিবাসী শিশুদের এক পশলা আনন্দের বৃষ্টি ঝরিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোঁটানোর জন্য আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘ নারিকেল জিঞ্জিরা তিরপিত’ – এ পিঠা ভোজনে শিশুরা সমস্বরে স্লোগান তোলে “ শীত এলো তাই হিম হিম পড়ছে
শিশির ঘাসে, শীত এলো তাই সূর্য্যিমামা দেরি করে হাসে। শীত এলো তাই সবাই মিলে পিঠাপুলি খাই, উৎসবের আনন্দেতে একসাথে গান গাই।‘‘

প্রসঙ্গত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত কক্সবাজার শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র গত ২০১৫ সাল থেকে সমাজের ঝুঁকিতে থাকা বিপন্ন পথশিশুদের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে নিরলস কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।

মতামত