বঙ্গবন্ধুর জীবনচরিত শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে: আবু রেজা নদভী এমপি

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

বঙ্গবন্ধু ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এ মহানায়কের জীবনচরিত শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ তারাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এবং জাতির কর্ণধার। তাদের জাতির পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত করে দেশপ্রেমিক সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইআইইউসি বোর্ড অব ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী এমপি। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২২ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধুমাত্র বাঙালি জাতিকেই স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দেননি, সারা বিশ্বের নিপীড়িত-নির্যাতিত স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তি সংগ্রামেও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও মানুষকে প্রেরণা যোগাবে।

এমপি নদভী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাঙালিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি প্রদান করা। গণমানুষের এ অধিকার আদায়ের জন্য তিনি সারাজীবন আন্দোলন করেছেন এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাগারে তার প্রায় ১৩ বছর কেটেছে। বঙ্গবন্ধুর সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্ব সমগ্র জাতিকে একসূত্রে গেঁথেছিল যার ফলে বাঙালি পেয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। জাতির পিতার অনুকরণীয় আদর্শ বাঙালিদের নিরন্তর অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। বঙ্গবন্ধুর কৌশলী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই বিশ্ব-মানচিত্রে বাংলাদেশ স্বকীয় অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

বঙ্গবন্ধু রাজনীতির সূচনা লগ্নেই মুসলমানদের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছিলেন। সাম্প্রতিক অতীতে যারা আওয়ামী লীগকে ইসলামের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ফায়দা নিতে চেয়েছিল তাদের উদ্দেশ্য আবারও বলতে চাই, একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত রাষ্ট্রের মাত্র সাড়ে তিন বছর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন গঠন করেছিলেন। টঙ্গীতে ইজতেমা ময়দান বঙ্গবন্ধুর অবদানেই হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুই এ দেশকে ওআইসি’র সদস্য করেছিলো। যুগের পর যুগ ধরে এই মাটিতে মুসলমানদের জন্য ভিত্তি শক্ত করতেই বঙ্গবন্ধু দুরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে এসব করে দিয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির কুমিরা ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মত বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন আয়োজন করা হয়। এতে আলোচনা সভার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আহবায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. মছরুরুল মওলা, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টের সদস্য ও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিজিয়া রেজা চৌধুরী, প্রফেসর ড. সালেহ জহুর, ড. ইঞ্জিনিয়ার রশীদ আহমদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. ফসিউল আলম সহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আকতার সাঈদ, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ শফিউর রহমান, দাওয়াহ এন্ড ইসলানিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান এএফএম নুরুজ্জামান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেসের পরিচালক (আইএমএল) ও ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পরিচালক মুহাম্মদ ইফতেখার উদ্দিন এবং বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহিল মামুন।

অনুষ্ঠান শুরু আগে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জাতীয় পতাকা ও আইআইইউসি’র পতাকা উত্তলন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে নিবেদন করা হয় শ্রদ্ধা। এরপর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার করিডোরে অংশ নেওয়া শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী মেজবানে অংশ নেন আইআইইউসি’র শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।

মতামত