ধ্যান ও জ্ঞানের অপূর্ব সমন্বয়ে তোমরা বেড়ে উঠছ: আল্লামা ড. এম শমশের আলী

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

২৭-৩০ মার্চ চার দিন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লামা সেন্টার সফর করেন দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, ইসলামি চিন্তাবিদ ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য আল্লামা ড. এম শমশের আলী। এসময় তিনি কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের নিয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে ৬টি উদ্বুদ্ধকরণ সেশন পরিচালনা করেন।


গণিত ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, বিজ্ঞান কোনো নিরস বিষয় নয়। এটি আনন্দ নিয়ে শেখা প্রয়োজন। আর সেটা তখনই সম্ভব যখন একজন শিক্ষার্থী শুধু বইয়ের পড়া মুখস্থ করবে না, শুধু এ প্লাস পাওয়ার জন্যে পড়বে না। পড়াশোনা করবে নতুন কিছু জানার জন্যে বা নতুন কিছু অন্বেষণের জন্যে।

তিনি কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘এদিক থেকে তোমরা এগিয়ে আছো। কারণ তোমরা কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে প্রাকৃতিক আবহে বেড়ে উঠছ। যদি প্রকৃতির দিকে তোমরা ভালোভাবে তাকাতে শেখো তাহলে প্রকৃতি থেকেই তোমরা আসল শিক্ষা পেয়ে যাবে। যখন তোমরা গাছের দিকে তাকাবে তখন চিন্তা করবে আলো বাতাস থেকে কীভাবে গাছ খাদ্য সংগ্রহ করে। কিংবা পুকুরের বাস্তুসংস্থান দেখবে। কিংবা চিন্তা করবে সূর্য থেকে আলো কীভাবে আসছে। কিংবা অণু-পরমাণুর ভেতরে ইলেকট্রন প্রোটন কীভাবে অবস্থান করে।’


অধ্যাপক ড. এম শমশের আলী আরো বলেন, ‘গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ইত্যাদি হলো জ্ঞানের শাখা-প্রশাখা। কিন্তু মানবতার কল্যাণে, স্রষ্টার সৃষ্টির কল্যাণে এই জ্ঞানকে ব্যবহার করার জন্যে প্রয়োজন ধ্যানে নিমগ্ন হওয়া। কারণ আমরা শুধু জ্ঞান পাব, জ্ঞানের উত্তম ব্যবহার করব না, তাহলে হবে না। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘এই পৃথিবীতে মানুষ যদি একেবারে মরে তবে সে এজন্যই মরবে—সে সত্যকে জেনেছিল কিন্তু সত্যের ব্যবহার জানে নি।’ তাই সৃষ্টির অপার মহিমাকে স্মরণ করা এবং জ্ঞানে ঐশ্বর্যবান একজন মানুষ হওয়ার জন্যে ধ্যানে নিমগ্ন হওয়া প্রয়োজন।কোয়ান্টামমে বারবার এসে আমি এই সত্যের চর্চাই দেখেছি। ধ্যান ও জ্ঞান দুটো মিলে এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটুক আমাদের বর্তমান মানব জাতির—এই হোক আমাদের স্বপ্ন।’

মতামত