নাফ নদী থেকে ৭ কোটি টাকা মূল্যের আইস ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি: আটক ২

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

বিজিবি’র অভিযানে টেকনাফের জালিয়ারদ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদী থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যমানের ১.০৬৯ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং ৫৪,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২জন মায়ানমার নাগরিক আটক

বিজিবি’র টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে ৬,৯৭,০০,০০০/- (ছয় কোটি সাতানব্বই লক্ষ) টাকা মূল্যমানের ১.০৬৯ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং ৫৪,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ জন মায়ানমার নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

২রা এপ্রিল রাতে বিজিবি’র টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, অত্র ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ দমদমিয়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ বিআরএম-৮ থেকে আনুমানিক ০২ কিঃ মিঃ উত্তর-পূর্ব দিকে জালিয়ারদ্বীপ এলাকার পার্শ্ববর্তী নাফ নদীর সীমান্ত দিয়ে মাদকের একটি চালান মায়ানমার হতে বাংলাদেশে পাচার হতে পারে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর ব্যাটালিয়ন সদর এবং দমদমিয়া বিওপি হতে দুইটি বিশেষ টহল নাফ নদীর জালিয়ারদ্বীপ এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে বিজিবি টহলদল একটি নৌকাকে মায়ানমারের শোয়ারদ্বীপ এলাকা থেকে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জালিয়ারদ্বীপের দিকে আসতে দেখে। নৌকাটি শূন্য রেখা অতিক্রম করে জালিয়ার দ্বীপের কাছে আসলে বিজিবির টহলদল নৌকাটিকে চ্যালেঞ্জ করে। নৌকার আরোহীরা বিজিবি’র চ্যালেঞ্জকে উপেক্ষা করে নৌকা ঘুরিয়ে মায়ানমার সীমান্তের দিকে চলে যেতে থাকলে, বিজিবি টহলদল ফায়ার করে উক্ত সন্দেহভাজন নৌকাটিকে থামানোর চেষ্টা করে। এতে একজন চোরাকারবারী নৌকা হতে লাফিয়ে নাফ নদী দিয়ে মায়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে গেলেও, বিজিবি টহলদল অপর ২ জন চোরাকারবারীসহ নৌকাটিকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে নৌকাটি তল্লাশী করে নৌকাটির ভিতরে পাটাতনের নিচে একটি বস্তার ভিতরে লুকায়িত অবস্থায় ৬,৯৭,০০,০০০/- (ছয় কোটি সাতানব্বই লক্ষ) টাকা মূল্যমানের ১.০৬৯ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং ৫৪,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২জন মায়ানমার নাগরিক- (১) মোঃ জুবায়ের আহমদ (২২), পিতা-মোঃ সিরাজ উদ্দিন, মাতা-মোছাঃ মোস্তফা খাতুন, গ্রাম-রোহিঙ্গা ডং, পোস্ট-মগপাড়া, থানা-নাগকুড়া, জেলা-মংডু এবং (২) মোঃ রফিক (২৩), পিতা-মৃত আব্দুল গনি, মাতা-মোছাঃ মৌমিনা খাতুন, গ্রাম-দাওয়ান খালী, পোস্ট-হাসসুরাতা, থানা-মংডু, জেলা-মংডু, মায়ানমার-কে আটক করতে সক্ষম হয়।

আটককৃত নৌকাটিকে টেকনাফ শুল্ক গুদামে জমা করতঃ ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং ইয়াবা ট্যাবলেট বহন, পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ এর দায়ে আটককৃত আসামীদেরকে জব্দকৃত মাদকসহ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) সদা জাগ্রত হয়ে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে “DEFENDER OF THE STRATEGIC SOUTH” হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন সীমান্ত সুরক্ষা ছাড়াও চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আন্তঃ রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অপরাধ দমনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে যথাযথ ও কার্যকরীভাবে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে বেসামরিক পরিমন্ডলে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

মতামত