“নিম্মবিত্তের ঈদ” মোঃ সাইফুল্লাহ (সাইফ)

“নিম্মবিত্তের ঈদ”

মোঃ সাইফুল্লাহ (সাইফ)

রমজানের ঐ রোজার শেষে উঠলো বাঁকা চাঁদ
ঈদ আনন্দে মেতে উঠতে আবুলের খুব সাধ,
রোজার ঈদে বাবার কাছে আবুলের এক দাবী
এ’বার কিন্তুু দিবা বাবা “আড়ং’য়ের” পান্জাবী।

চোঁখের জলে কেঁদে-কেঁদে বাবা তাহার কয়
বাবা, শপিং মলের জামা-কাপড় টেকসই নয়,
আবুল তো নাছোড়বান্ধা বুঝতে চায়না কিছু
চাঁদ রাতে মার্কেটে যায় বাবার পিছু পিছু।

যাহা দেখে তাহা চায় ঘোড়ার রোগী আবুল
ছেলের শখ মিটাতে বাবা হয়ে যায় ব্যাকুল,
আবুল সুধায়- “বাবা আমি কলেজেতে পড়ি”
চাই ; এক জোড় জুতা আর একটা হাতঘড়ি।

বাবা তাহার হাবার মত অবাক তাকিয়ে রয়
হায়রে আবুল ! ঈদ আসলে ; কত কিছু কয়,
আবুলের বাপ চাকরী করে এ.টি.এম বুথে
ঈদ আসলে মাথায় হাত বুঝেনা তার পুতে।

সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরী করে মিরপুর ঢাকা
মাস শেষে মাইনে বাবার হাজার পাঁচেক টাকা,
শপিংয়ের কথা শুনে বাবার গায়ে ওঠে জ্বর
ইট-পাথরের ঢাকা শহরে সবাই কেমন পর !

অবশেষে পাঁচ হাজারেই কিনলেন- পান্জাবী
এবার বল, ঈদের দিনে সেমাই কেমনে খাবি?
বেতন-বোনাস সর্বসাকুল্যে হাজার সাতেক টাকা
শপিং শেষে বাসায় এসে দেখেন পকেট ফাঁকা।

লাল- নীল বাত্তি জ্বলে, এই আজব শহর ঢাকা
ঢাকায় ; পানি খেতে ও প্রশ্রাব করতে লাগে টাকা
নুন আনতে পান্তা ফুরায় আর পান্তা আনতে নুন,
টাকা বাচাতে আবুলের বাপ খায়না-চা;পান-চুন।

সন্তানের শখ মেটাতে বাবাদের চেষ্টা সাধ্যমত
কিন্তুু; অনেক ছেলেই; হয়না- বাবার বাধ্যগত,
আবুলের বাপ তবুও খুশি- ঈদের শপিং করে,
“নিম্নবিত্তের” ঈদের সুখ” বুক চাপা দিয়ে মরে।

 

মতামত