পবিত্র কোরআন পোড়ানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে সুইডেনে বিক্ষোভ, আহত অন্তত ৪০

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

সুইডেনে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে কমপক্ষে ৩৫ বিক্ষোভকারীকে। এ ছাড়া ২০টির বেশি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ।

গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) থেকে সুইডেনে শুরু হয় পবিত্র কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ। বিক্ষোভে বাধা দেয় পুলিশ। গুলি চালালে আহত হন অনেকে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে প্রায় ২৬ জন পুলিশ ও ১৪ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরাও গাড়িতে আগুন দেন।

সুইডেনের ওরেব্রো শহর থেকে বিক্ষোভ শুরু হলেও ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দেশটির বিভিন্ন শহরে। রাজধানী স্টোকহোম, মালমো, লিংসপিংসহ বিভিন্ন শহরেও কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়।
সংঘর্ষের মূল কারণ, রাসমুস পালুদান নামে এক আইনজীবীর আবারও কোরআন পোড়ানোর পরিকল্পনা। রাসমুস পালুদানই মুসলিমবিরোধী বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেন এবং তা প্রদর্শন করেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

পালুদান ২০১৭ সালে হার্ড লাইন নামে একটি দল গঠন করেন, যা মূলত ইসলাম এবং অভিবাসনবিরোধী দল হিসেবে পরিচিত। এর আগেও মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ পোড়ানোর ঘটনায় রাসমুস পালুদানকে অভিযুক্ত করা হয়।

সামাজিক মাধ্যমে কোরআন পুড়িয়ে দেওয়া ছবি পোস্ট করে রাসমুস পালুদান ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি আরও কোরআন পোড়াবেন। রাসমুসের বাবা একজন সুইডিশ নাগরিক। তিনি ২০১৭ সালে প্রথম আলোচনায় আসেন। সামাজিক মাধ্যম ইউটিউবে মুসলিমবিরোধী ভিডিও বানানোর মাধ্যমে তিনি নজরে আসেন।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এক ভিডিওতে রাসমুস বলেন, ‘ইসলাম এবং মুসলিমরা হচ্ছে শত্রু। এই পৃথিবীতে যদি একজন মুসলিমও না থাকে, তাহলে খুব ভালো হবে। আমরা আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাব।

সুইডেনে বিক্ষোভ সংঘর্ষের ঘটনা কাম্য নয় জানালেও কোরআন অবমাননার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
সুইডেনে কোরআন অবমাননার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে মিশর, সৌদি আরব, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ।

মতামত