ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা: ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপির সঙ্গে পুলিশের বাদানুবাদ

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:


জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালীন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিয়ে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সঙ্গে বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম আলীর বাদানুবাদ হয়েছে।

বাদানুবাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। এমপির সামনে এক পুলিশ কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা জানান নেটিজেনরা।

ভিডিওতে দেখা গেছে, বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে শোক দিবসের আলোচনা সভা শেষ করে নেতাকর্মীদের নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।

শিল্পকলার গেট থেকে এমপিসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বের হতে পারলেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গেটের ভেতর আটকে রাখে পুলিশ। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ছেড়ে দিতে বলেন এমপি শম্ভু। এ সময় তার (এমপি) সামনে এসে দাঁড়ান বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম আলীসহ পুলিশ সদস্যরা।তিনি এমপিকে উদ্দেশ্যে করে হাত উঁচিয়ে বলেন, ‘ওপর থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট মারল কেন? ওই খান থেকে কেন ইট মারবে? আমরা কি অন্যায় করেছি, সেটার জবাব দিয়ে যাবে এখান থেকে’। এ সময় এমপি বলেন, এ ঘটনা তো নাও ঘটতে পারত।

তখন মহরম আলী উচ্চ স্বরে বলেন, ‘আমরা তো কিছু করি নাই’। এমপি বলেন, ‘তাহলে আপনারা থামাইয়া দেন’।

মহররম বলেন, ‘ইট মারবে কেন ? আমাদের গাড়িতে ইট মারবে কেন? আমরা কি মারামারি করেছি এখানে নাকি কাউকে আমরা একটা ফুলের টোকা দিয়েছি আমরা। আমরা তো কাউর গায়ে হাত তুলিনি।

আমরা তো কাউকে টাচ করিনি। আমার তো প্রমিস করেছিলাম কারো গায় হাত তুলব না। এক পক্ষে ওদিকে আছে আরেক পক্ষে এদিকে’। তখন এমপি বলেন, ‘ভালো কথা’। মহররম বলেন, ‘এই যে নতুন গাড়িটাকে ভেঙে ফেলেছে। সরকার টাকা কোথা থেকে দেয়’?
এরপর শিল্পকলার মধ্যে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশন শুরু করে পুলিশ সদস্যরা। বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। যখন পুলিশ লাঠিপেটা করছিল সেখানেই দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনা অবলোকন করছিলেন সাংসদ।

লাঠিপেটার পর পুলিশকে উদ্দেশ্য করে এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা অ্যাকশন নিয়ে ছাড়লেন’। তখন সেখানে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম তারিকুল ইসলাম ও মহররম আলীকে বলতে শোনা যায়, ‘না আমরা অ্যাকশন নেই নাই’। তখন এমপি বলেন, ‘ছেলেরা অন্যায় করলে তাদের ধরে নিয়ে যেতেন, মারধর করলেন কেন? আমাদের সামনেই মারলেন আপনারা’। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারা এমপিকে শান্ত করার চেষ্টা করে গাড়িতে তুলে দেন। এ সময় এমপি শম্ভুকে বলতে শোনা যায়, ‘১৫ আগস্টের মতো একটি দিনে আপনারা এটা না করলেও পারতেন’।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বরগুনা পৌরসভার মেয়র অ্যাড. কামরুল আহসান মহারাজ, জেলা যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম অ্যাটম প্রমুখ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে ফেরার পথে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে আসলে পদবঞ্চিত একটি পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত করার পদক্ষেপ নিলে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশের ব্যবহৃত একটি গাড়ির সামনের গ্লাস ভেঙে যায়। গাড়ির গ্লাস ভেঙে যাওয়ার পরই ক্ষিপ্ত হয় পুলিশ। তারা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিপেটা করে।

এ ঘটনায় কয়েকটি মোটরসাইকেলসহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে শিল্পকলা ও লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মতামত