উপমহাদেশে একমাত্র বাঙালীরাই যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে- অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান বলেছেন, বাঙালির সাহিত্য,সংস্কৃতি, জীবনবোধ- সব হবে পাকিস্তানি শাসকদের চাপিয়ে দেওয়া ভাষাকেন্দ্রিক বিভেদকে ডিঙিয়ে; নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালিকে একটি হীন, দুর্বলচিত্ত জাতিহিসেবে পরিচয় করিয়েছে ব্রিটিশরা। এমন দুর্বলচিত্তে কালিমায় সিক্ত হওয়া ভারতীয় উপমহাদেশের কোন দেশ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেনি, একমাত্র বাঙালি ও বাংলাদেশ ছাড়া। যুগ যুগ ধরে  বাঙালি শাসিত হয়ে আসছিল, শাসনের ভার যথার্থ অর্থে বাঙালি কোনো দিন পায়নি।গুপ্তযুগের পূর্বে বাঙালির কোনো পরিচয় ছিল না।ইতিহাসে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলা, এমনকি এর আগের শশাঙ্ক ও গোপালের মতো স্বাধীন  চেতা রাজারা স্বাধীনভাবে দেশ শাসন করেছেন ইতিহাসে এমন প্রমাণ নেই। বঙ্গবন্ধু সেটি করে দেখিয়েছিলেন।

শনিবার ( ২০ আগস্ট) কবি নজরুল একাডেমি চট্টগ্রাম আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের ‘ চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস নানা জটিলতার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ইংরেজ এসেছে। ইংরেজ তার শাসনকে টিকিয়ে রাখার জন্য নানান কৌশল অবলম্বন করেছে। জন্ম দিয়েছে সাম্প্রদায়িকতার। যে সাম্প্রদায়িকতায় হিন্দু মুসলিমের গলায় এবং মুসলিম হিন্দুর গলায় ছুরি বসিয়েছে। মানুষে মানুষে বিশৃঙ্খলায় মেতেছে। অর্থাৎ বাঙালি নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানত না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তোপে ইংরেজরা দেশ ছাড়লে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে দেশ ভাগ করে দিয়ে যায়। জন্ম নেয় পাকিস্তান নামের এক বিষবৃক্ষ। চরম ধর্মীয় মনোভাব নিয়ে পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালিদের শাসনে প্রবৃত্ত হয়। বাঙালিরা হলো পাকিস্তানি। সেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটিয়ে  দেশপ্রেমের অনন্য নজির স্থাপন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধু আমাদের অনুভূতি ও অন্তর আত্মায় মিশে আছেন। শেখ মুজিব মানেই বাংলাদেশ, জাতির পিতার প্রতি আমাদের ঋণ, শ্রদ্ধা ও ভালবাসা অশেষ, শেখ মুজিব মানেই বাংলার মুক্ত আকাশ, শেখ মুজিব মানেই বাঙালির অবিরাম মুক্তির সংগ্রাম, শেখ মুজিব মানেই বাঙালি জাতির আশ্রয় ভরসা, শেখ মুজিব মানে বাঙালি আদর্শ।

বরেণ্য আবৃত্তি শিল্পী টিভি ও মঞ্চ উপস্থাপিকা জেবুন নাহার শারমিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোকের মাসের কথামালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এমআর আজিম বলেন, সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে শিশুকিশোরদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারন করে বঙ্গবন্ধু আদর্শে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

কবি নজরুল একাডেমির নগরীর খুলশী ক্যাম্পাসে  শোক দিবসের কথামালায় বক্তব্য রাখেন, বাকলিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, কবি নজরুল একাডেমি চট্টগ্রামের উপদেষ্টা জসিম উদ্দিন খান, বিশিষ্ট সাংবাদিক ইসমাইল পারভেজ ফারুকী,
কবি নজরুল একাডেমির নির্বাহী পরিচালক নুর নবী, সিনিয়র সাংবাদিক ওয়াহিদ জামান, পদ্মা অয়েলের এইচআর ম্যানেজার শহিদুল আলম,  নাসিরাবাদ পাবলিক স্কুলের চেয়ারম্যান আব্দুল রব সোহেল, রিজিওনাল ম্যানেজার অব অপারেশন মোহাম্মদ সাইফুর রব তারেক প্রমুখ।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৭ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে কবি নজরুল একাডেমি  আয়োজনে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনী, গান, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শনিবার দুপুরে একাডেমির  চট্টগ্রাম শাখায় উদ্বোধন করা হয়।

প্রতিযোগিতার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সহকারী আবৃত্তি প্রশিক্ষিকা উম্মে সালমা নিঝুম ও কবি নজরুল একাডেমি চট্টগ্রামের  প্রশিক্ষকগন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কবি নজরুল একাডেমি চট্টগ্রামের প্রধান উপদেষ্টা ইসমাইল পারভেজ ফারুকী।

মতামত