জমকালো আয়োজনে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পিঠাপুলি উৎসব অনুষ্ঠিত

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত কক্সবাজার শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে জমকালো আয়োজনে স্থানান্তরিত বালিকা শাখার নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও পিঠাপুলি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে ৯ই জানুয়ারি (সোমবার) বিকেলে কেন্দ্রের আলির জাঁহালস্থ একেসি টাওয়ার এ সদ্য স্থানান্তরিত বালিকা শাখা ভবন মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাকারিয়া এর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার এর নান্দনিক সঞ্চালনায় এবং নিবাসী শিশু মোস্তফা কামাল এর কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যে দিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক হাসান মাসুদ, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আহসানুল হক, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান আলী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ মুজিবুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এর সহকারী কমিশনার মোঃ রাইসুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সফি উদ্দিন মিতুল, কক্সবাজার পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর মোঃ শাহাবুদ্দিন, কক্সবাজার পৌরসভার মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ফোরকান আজাদ, নির্বাহী পরিচালক কোস্ট ফাউন্ডেশন ও মেম্বার সেক্রেটারি স্থানীয় এনজিওদের সংগঠন সিসিএফ জাহাঙ্গীর আলম, চাইনিজ উশু স্কুল কক্সবাজার এর সাধারণ সম্পাদক মো: গিয়াস উদ্দিন এবং আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন ও পায়রা উড্ডয়নের মাধ্যমে কেন্দ্রের স্থানান্তরিত বালিকা শাখার নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান। অতঃপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ফিতা কেটে পিঠাশালার প্রবেশদ্বার উন্মোচন করেন এবং হরেক রকম ও বাহারী স্বাদের ৬৯ আইটেমের পিঠা সমাহারে সজ্জিত পিঠাশালা পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথি সহ উপস্থিত সকলে।

নতুন বছরের শুরুতে শীতের মৌসুমে বালিকা শাখা মিলনায়তনে এ উপলক্ষে বাঙালিয়ানায় পিঠাশালায় ঠাঁই পেয়েছে কুতুবদিয়া বাতিঘর, দরিয়ানগর, পাটুয়ারটেক, হিমছড়ি, নারিকেল জিন্জিরা, সোনাদিয়া দ্বীপ শিরোনামের ছয়টি পিঠাশালায় যাতে গ্রাম বাংলার ৬৯ আইটেমের বাহারী স্বাদের পিঠাপুলির সংযোগ ঘটানো হয়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মিলনমেলায় শীতকালীন অপরাহ্নে অনিন্দ্য সুন্দর এ পিঠা উৎসবে দেখা মিলেছে ঐতিহ্যবাহী ভাপা পিঠা, ঝোল ভাপা পিঠা, ইলিশ ভাপা পিঠা, ভাপা পুলি পিঠা, পাটসাপটা পিঠা, মালপোয়া পিঠা, খোলা পুলি পিঠা, ঝাল পুলি পিঠা, কলা পুলি পিঠা, দুধ চিতই পিঠা, দুধ পুলি পিঠা, ভর্তা চিতই পিঠা, সিঁধোল ভর্তা চিতই পিঠা, ডিম চিতই পিঠা, রস পাটিসাপটা পিঠা, রস পোয়া পিঠা, সুজির রস ভরা পিঠা, সাবু দানার ক্ষীর পিঠা, চুটকি পিঠা, হাতের সেমাই পিঠা, পাউরুটির পাটিসাপটা পিঠা, চুই পিঠা, আতিক্কা পিঠা, মোমো পিঠা, মেরা পিঠা, কুলফি/ কাঠাঁল পাতা পিঠা, চাল কুমড়ার মোরব্বা পিঠা, পাকন পিঠা, নুনগড়া পিঠা,তুরতুরে পিঠা,দুধ তক্তি পিঠা, কালাই রুটি, ক্রিম কালোজাম, নকঁশা বিস্কিট, ছেক্কা পুলি, ডিম সুন্দরী পিঠা, মুগ পাক্কন, খোলাজা পিঠা, চিনা হাঁসের রেজালা, খাসির মাংসের কালিয়া,দেশী মুরগীর মাংসের সাথে মাটি আলুর ঝোল ইত্যাদি।

এরপরেই বারো পাউন্ড ওজনের কেক কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এর দ্বিতীয় পর্বের সূচনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান। অতঃপর কেন্দ্রের নিবাসী শিশুদের পরিবেশিত মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শিশুদের মাঝে অনাবিল আনন্দের আবেশ ছড়িয়ে দেয় যা উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বিমুগ্ধচিত্তে উপভোগ করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে কেন্দ্রের নিবাসী শিশু মো: ওমর ফারুক, রেখা মনি এবং মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন কে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য শুভেচ্ছা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং একইসাথে জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান কে বালিকা নিবাসী শিশুদের তৈরিকৃত নমুনা তাজমহল এর হস্তশিল্প তুলে দেয় নিবাসী শিশুরা এবং সম্মাননা স্মারক তুলে দেন কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার। এরপর নিবাসী ‍শিশুদের পরিবেশনায় উমুক্ত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিবাসী শিশুদের মাঝে বিশেষ নৈশভোজ পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষভাগে উৎসব মুখর পরিবেশে পিঠা ভোজনে শিশুরা সমস্বরে স্লোগান তোলে” শীত এলো তাই হিম হিম পড়ছে শিশির ঘাসে, শীত এলো তাই স্যূর্যি মামা দেরি করে হাসে। শীত এলো তাই সবাই মিলে পিঠাপুলি খাই, উৎসবের আনন্দেতে একসাথে গান গাই।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত কক্সবাজার শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ২০১৫ সাল থেকে সমাজের ঝুঁকিতে থাকা বিপন্ন পথশিশুদের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ।

মতামত