ই-পেপার | মঙ্গলবার , ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
×

সাতকানিয়ায় নির্বাচনোত্তর সহিংসতা ইউপি সদস্যকে বেধড়ক মারধর

চেয়ারম্যানের দাবী স্থানীয় বিরোধের কারণেই এই ঘটনা

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় নৌকা প্রতীকের সমর্থক এক ইউপি সদস্যকে বন্দুকের বাট, লাঠি ও লোহার রড় দিয়ে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন ওই ইউপি সদস্য। তবে ইউপি চেয়ারম্যানের দাবী স্থানীয় বিরোধের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।

আহত ইউপি সদস্যের নাম মোহাম্মদ মনজুর আলম (৪২)। তিনি সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় মৃত কবির আহমদের ছেলে।

শুক্রবার(১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮ টার সময় উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পাহাড়তলী আলীনগর এলাকার বাবুলের কুলিং কর্নারের সামনের এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

আহত ইউপি সদস্যের স্ত্রী হাফসা বেগম ও ছোটভাই মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন সিটিজি ভয়েস টিভিকে বলেন, গত (৭ জানুয়ারি) রোববার অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন ইউপি সদস্য মনজুর আলম।নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিকট নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হেরে যায়। তারই প্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপর গত শুক্রবার রাতে এওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের আলীনগর এলাকার বাবুলের কুলিং কর্নারে চা পানের উদ্দেশ্য বসেছিলেন ইউপি সদস্য মনজুর আলম। এসময় হঠাৎ অতর্কিত অবস্থায় লম্বা বন্দুক, লোহার রড় ও লাঠি নিয়ে এওচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ এর প্রেরিত ২৫/৩০ জনের একদল দূর্বৃত্তরা এসে প্রথমে ফাকা গুলি করলে লোকজন হতভম্ব হয়ে পালিয়ে যায়। এরপর তারা মেম্বারের নিকট কফিয়ত চায় কেন তিনি নৌকার জন্য ভোট চেয়েছেন। মেম্বার কিছু বলার আগেই তার উপর চলে লম্বা বন্দুকের বাট, লোহার রড় ও লাঠি দিয়ে অমানবিক নির্য়াতন করে একসময় মেম্বারকে মৃত ভেবে তারা বীরদর্পে পালিয়ে যায়। পরে আমরা এবং এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। মনজুর মেম্বারের বাম হাত, ডান পা, মাথাসহ সমস্ত শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকাকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরন করার পরামর্শ দিলে তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সালেহ সিটিজি ভয়েস টিভিকে বলেন, মনজুর মেম্বার আমাকে ফোন দিয়েছিলো এবং আমি সাথে সাথে ওসি সাহেবকে কল দিয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছি। স্থানীয় বিরোধের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। মনজুর মেম্বার শালিশের নামে বিভিন্ন জনের কাছথেকে টাকা নিতো। স্থানীয় বিরোধের ক্ষোভের কারণেই এসব ঘটনা ঘটছে, এখানে নৌকা এবং ঈগলে ভোট দেওয়ার বিষয় নয়। এগুলো ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করার প্রচেষ্টা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি প্রিটন সরকার সিটিজি ভয়েস টিভিকে বলেন, ওই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত পূর্বক যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।