ই-পেপার | বৃহস্পতিবার , ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×

কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাঙালিয়ানায় বর্ষবরণ ও বৈশাখী উৎসব উদযাপিত

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় পাওয়া সমাজের এক সময়কার সুবিধাবঞ্চিত-বিপন্ন-ঝুঁকিতে থাকা-পথ শিশুদের নিয়ে সপ্তাহব্যাপী বাঙালিয়ানার নানা ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে নতুন বাংলা বছর ১৪৩২ কে বরণ করা হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে পহেলা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল রোজ সোমবার সকালে কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার এর নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ্রগ্রহণ করে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের নিবাসী শিশুরা।


এরপরে সাজিদা জয়হা এর নান্দনিক সজ্ঞালনায় এবং উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জমকালো বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহীন মিয়া, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সফি উদ্দিন মিতুল, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল আউয়াল, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ হানিফ মিয়া, কক্সবাজার মডেল হাই স্কুল এর সহকারী শিক্ষক শাহাজাদী রোমেনা, দক্ষিণ পানেরছড়া মিঠাছড়ি দাখিল মাদ্রাসা এর এবতাদেয়ী শাখার প্রধান শিক্ষক মাওলানা হাফেজ মুহিবুল্লাহ মুহিব, নতুন জীবন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও জিটিভি এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি ওমর ফারুক হিরু, চাইনিজ উশু স্কুল কক্সবাজার এর প্রধান প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন তুহিন, চাইনিজ উশু স্কুল কক্সবাজার এর প্রশিক্ষক ওয়াজিহা ইসলাম কিম এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ আবুল কালাম চৌধুরী সহ আরও অনেকে।


সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনে উল্লেখযোগ্য ছিল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নির্ভর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলপনা আঁকা, নিবাসীদের অংশগ্রহণে কেতাদুরস্ত বাঙালিয়ানা সমাবেশ, বাঙালিয়ানা পসরা যেখানে ঠাঁই পেয়েছে কাঁচা বাজার, মুদি দোকান, কসমেটিকস, পোশাক, মনিহারি সামগ্রী, তৈজসপত্র, বাঙালিয়ানার ঐতিহ্যবাহী খাবারের হোটেল, পান-সুপারি, বাচ্চাদের খাবার সহ দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় নানা ধরণের দ্রব্যসামগ্রী। এছাড়াও আকর্ষণীয় পসরা ছিল হালখাতা উৎসবের আমেজে রসগোল্লা ভোজন।


উপস্থিত অতিথিদের যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে এবং বর্ষবরণ ও বৈশাখী উৎসবকে মুখরিত করে তোলে সেটি ছিল নিবাসী শিশুদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ বাঙালিয়ানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবশেষে শিশুদের নিয়ে বাঙালিয়ানা ভোজের বাহারী স্বাদ উপভোগ করে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।


কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার জানান- মূলত বাংলা নতুন বছর উপলক্ষ্যে কেন্দ্রের নিবাসী শিশুদের এক পশলা আনন্দের বৃষ্টি ঝরিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোঁটানোর জন্য আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস।


উৎসবমুখর পরিবেশে বাঙালিয়ানা ভোজনে শিশুরা সমস্বরে স্লোগান তোলে-
” এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ।
তাপস নিশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক॥
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক॥
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ।
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক॥ ”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র ২০১৫ খিস্টাব্দ থেকে সমাজের ঝুঁকিতে থাকা-বিপন্ন-পথ শিশুদের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে সমন্বিত সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।