ই-পেপার | বৃহস্পতিবার , ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×

বিএনপিতে যোগ দিয়েই নোয়াখালীতে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের ত্রাসের রাজত্ব

অবাধে চলছে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটতরাজ।

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

বিএনপিতে যোগদান করেই চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটতরাজের সাম্রাজ্য আরও ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দিয়েছেন নোয়াখালীর ত্রাস হিসেবে পরিচিত বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী সোনাইমুড়ী পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম।

১২ই ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ট আসনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর থেকেই বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলুর ছত্রছায়ায় নোয়াখালীর সবগুলো খাতে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটতরাজ চালানোর সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম।

কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের হাতে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সোনাইমুড়ি উপজেলার সংখ্যালঘু বিহারী জনগোষ্ঠীরা। আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে যতটুকু চাঁদা দিতে হত এখন বিএনপি ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই ২/৩ গুন বেশি চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। নিয়মিত হারে চাঁদা না পেলে মারধর, বাড়ি ঘর ভাঙচুর, দোকানপাট ভাঙচুর, দোকানের ক্যাশ বক্স থেকে টাকা লুট করা, মিথ্যা মামলার আসামি করে হয়রানি করাসহ অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের লোকজন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ চাহিদামত চাঁদার টাকা দিতে না পারার কারণে গতকাল শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারী) রাত আনুমানিক নয়টায় পৌরসভার সোনাইমুড়ী বাজারে অবস্থিত চেইন সুপার শপ স্বপ্ন, স্থানীয় সুপার শপ আয়েশা মার্ট, চড়ুইভাতি রেস্টুরেন্ট, হালাল ডাইন রেস্টুরেন্ট, ইনসাফ রেস্টুরেন্ট সহ ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী ক্যাডাররা।

এসময় তাদের হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন, শুধুমাত্র হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে তাঁরা থেমে যাননি লাঠি, হকিস্টিক ও লোহার রড দিয়ে পেটানোর পর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আয়েশা মার্ট এর মালিক ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন, চড়ুইভাতি রেস্টুরেন্ট এর পরিচালক শহীদুল ইসলাম, এবং হালাল ডাইন রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার আবদুল খালেককে পুলিশের হাতে তুলে দেন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী ক্যাডাররা। আহত ব্যবসায়ীদের কারাগারে প্রেরণ করার দাবী জানিয়ে থানার ওসিকে ফোন করেন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওরা সবাই বিহারি এবং আওয়ামীলীগের অনুসারী আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীরা বাজার ব্যাবস্থাপনার বিষয়ে আলাপ করতে গেলে তাঁরা হামলা চালিয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ তাঁরা অতিরিক্ত হাঁরে চাঁদা না দেওয়ার কারণেই আপনার অনুসারীরা তাদের উপর হামলা এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালিয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন এসব সত্যি নয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী বিএনপির নেতাকর্মীরা বাজার ব্যাবস্থাপনার বিষয়ে আলাপ করতে গেলে ব্যবসায়ী পরিচয়ে তাদের উপর বিহারি এবং আওয়ামীলীগের অনুসারীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় ৩ জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাঁরাই ভুক্তভোগী এবং অতিরিক্ত হাঁরে চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তাদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট চালিয়ে তাদেরকে উল্টো পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করছি, তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট