সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:
নোয়াখালীর ত্রাস হিসেবে পরিচিত বহুল আলোচিত সন্ত্রাসীদের গডফাদার সোনাইমুড়ী পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের মামলা-হামলার রোষানলে পড়ে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার এখলাসপুর ইউপির ৩নং ওয়ার্ড এলাকার হাসেম মিয়ার বাড়ির বিহারী আবুল হাসেমের ছেলে কানাডা প্রবাসী বিহারী আবুল কাশেমের পুরো পরিবার। নির্যাতন ও অপহরণের হুমকিতে ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কাশেমের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরা। ছোটভাইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চালানো হয়েছে দফায় দফায় হামলা ভাংচুর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে গত (২৩ জানুয়ারি) বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলুর হাত ধরে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। বিএনপি সরকার গঠন করার পর থেকেই বরকত উল্লাহ বুলুর ছত্রছায়ায় আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে গেছেন তিনি। নোয়াখালীর সবগুলো খাতে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটতরাজ চালানোর সাম্রাজ্য আরও ব্যাপক ভাবে গড়ে তুলেছেন এবং পূর্বের চেয়েও বেশি ভয়ংকর ভাবে নির্যাতন চালাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আগের চেয়ে ২/৩ গুণ বেশি হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও যাদের সাথে ইতিপূর্বে যে কোন বিষয় নিয়ে ঝামেলা ছিলো তাদের সকলের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে জাহাঙ্গীরের ক্যাডার বাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারী) রাত আনুমানিক নয়টায় পৌরসভার সোনাইমুড়ী বাজারে অবস্থিত প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে দুই লক্ষ টাকা করে চাঁদা দাবী করে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী ক্যাডাররা। এসময় চাহিদামত চাঁদা না পেয়ে চেইন সুপার শপ স্বপ্ন, স্থানীয় সুপার শপ আয়েশা মার্ট, চড়ুইভাতি রেস্টুরেন্ট, হালাল ডাইন রেস্টুরেন্ট, ইনসাফ রেস্টুরেন্ট সহ ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায় তাঁরা।
এসময় তাদের হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন, শুধুমাত্র হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে তাঁরা থেমে যাননি লাঠি, হকিস্টিক ও লোহার রড দিয়ে পেটানোর পর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আয়েশা মার্ট এর মালিক ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন, চড়ুইভাতি রেস্টুরেন্ট এর পরিচালক শহীদুল ইসলাম, এবং হালাল ডাইন রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার আবদুল খালেককে আওয়ামী লীগের দোসর সাজিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী ক্যাডাররা। তাদের মধ্যে চড়ুইভাতি রেস্টুরেন্টটির মালিক কানাডা প্রবাসী বিহারী আবুল কাশেম। তিনি তাঁর ছোটভাই শহীদুল ইসলামের মাধ্যমে রেস্টুরেন্টটি পরিচালনা করেন।
কানাডা প্রবাসী বিহারী আবুল কাশেম হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কল করে প্রতিবেদককে বলেন, কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের মামলা-হামলায় টিকতে না পেরে দেশ থেকে পালিয়ে কানাডায় চলে এসেছি। ভেবেছিলাম আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর কিছুটা নিরাপত্তা মিলবে, কিন্তু ঘটেছে এর উল্টো এখন মামলা-হামলা ও নির্যাতনের মাত্রা আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। নির্যাতন ও অপহরণের হুমকিতে ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে আমার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরা।
কাশেম বলেন, গত ২০২৫ সালের ১০ জুলাই আমার স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে বাজার থেকে ফিরছিল। পথে কবির তাদের থামিয়ে আমার অবস্থান জানতে চায়। আমার স্ত্রী তথ্য দিতে অস্বীকার করলে কবির তাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করে এবং আমার মেয়েকে অপহরণের হুমকি দেয়। এরপর আমার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে সিলেটে তার বোন মোমেনা বেগমের বাসায় চলে যায়। আজ পর্যন্ত তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারেনি।
হামলা-মামলা ও নির্যাতনের বিষয়ে গত ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেওয়ার কারণে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১১ অক্টোবর ২০২৫ ইং রাত আনুমানিক ২টার দিকে আমার রেস্টুরেন্টে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে রেস্টুরেন্টের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এরপর আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর। মামলা দায়েরের পর গত ২০২৫ সালের ১৮ই নভেম্বর আমার বাসায় পুলিশ আসে। তারা আমার ভাই শহিদুলকে জানায় যে আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী তারা আমাকে খুঁজছে। পুলিশ আমার ভাইকে বলে আমাকে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে।
গত ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি পুলিশ কবিরকে সাথে নিয়ে আমার বাসায় আসে। তারা বলে তারা তথ্য পেয়েছে যে আমি দেশে ফিরে এসেছি। তারা কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই আমার বাসা তল্লাশি করতে চায়। ঝামেলা এড়াতে আমার ভাই তাদের ৩৫,০০০ টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়।
গতকাল (২০ ফেব্রুয়ারী) শুক্রবার রাত আনুমানিক নয়টায় চাহিদামত চাঁদার টাকা দিতে না পারার কারণে আমার প্রতিষ্ঠান চড়ুইভাতি রেস্টুরেন্টসহ ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায় জাহাঙ্গীরের অনুসারী ক্যাডাররা।
এসময় তাদের হামলায় আহত হন আমার ভাই শহিদুলসহ ৮ জন, শুধুমাত্র হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে তাঁরা থেমে যাননি লাঠি, হকিস্টিক ও লোহার রড দিয়ে পেটানোর পর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমার ভাই শহিদুল, আয়েশা মার্ট এর মালিক ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন এবং হালাল ডাইন রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার আবদুল খালেককে পুলিশের হাতে তুলে দেন এবং বলেন ওরা সবাই বিহারি এবং আওয়ামীলীগের অনুসারী আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীরা বাজার ব্যাবস্থাপনার বিষয়ে আলাপ করতে গেলে তাঁরা হামলা চালিয়েছে।
প্রবাসী আবুল কাশেম বলেন, ৪ মাস আগে রেস্টুরেন্টটি পুড়িয়ে দেওয়ার মাসখানের পর বিভিন্ন মাধ্যম থেকে লোন নিয়ে ৮/১০ লক্ষ টাকা খরচ করে রেস্টুরেন্টটি সংস্কার করে আবার চালু করি। এখন আবারও ভাংচুর চালিয়েছে পাশাপাশি আমার ভাই শহিদুলকে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় আমরা অনেকটা নিঃস্ব হয়ে গেছি এবং মামলা-হামলার রোষানলে পড়ে পুরো পরিবারের সবাই বিপর্যস্থ হয়ে গিয়েছি। এখানে পুলিশ, প্রশাসন, আইন-আদালত, সবকিছুর মালিক তাঁরা। আমাদের কথা শুনবার মত কেউই নেই কারণ বিএনপি ক্ষমতায় আছে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে তাদের রেকর্ড আগে থেকেই ভালো নয়।
কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আওয়ামীলীগের আমলে যতটা ভয়ংকর ছিলো এখন কয়েকগুণ বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে কারণ সে এখন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলুর ছত্রছায়ায়। এখানে বুলু যা বলেন সেটাই আইন, পুলিশ আইন-আদালত, সবকিছুর মালিক তাঁরা আমাদের বাঁচানোর জন্য মহান আল্লাহ ছাড়া কেউই নেই। জানিনা কখন ওদের হাত থেকে নিস্তার মিলবে? আমি এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
কানাডা প্রবাসী আবুল কাশেমের এতসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বলেন এগুলো সবগুলো মিথ্যা অভিযোগ। যদি মিথ্যা হয় তাহলে কেন কাশেমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন বিহারি কাশেম আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিউজ প্রচার করিয়েছে তাই মানহানীর মামলা দায়ের করেছি, এমনটা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।