সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলুর হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান করলেন নোয়াখালীর ত্রাস হিসেবে পরিচিত বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী সোনাইমুড়ী পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম।
আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে বরকত উল্লাহ বুলুর বাসভবনে উপস্থিত হয়ে তাঁর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে অনুসারীদের সাথে নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম। এসময় তাঁর গলায় ফুলের মালা পড়িয়ে বরণ করে নেন বরকত উল্লাহ বুলু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজুল হক আবেদ, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহবায়ক জহির উদ্দিন হারুন, সদস্য সচিব মোহাম্মদ মহসিন সহ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আহসান উল্যাহ।
কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম মূলত নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ি আংশিক) আসনের আওয়ামীলীগের সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য মামুনর রশীদ কিরন এমপির ক্যাডার হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ ই আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদলবলে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, আবার অনেকে আত্মগোপনে চলে যায়। তেমনিভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম।
কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে খোলস পাল্টে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর ছত্রছায়ায় নোয়াখালিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম। নোয়াখালীতে সব ধরনের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটতরাজ চালিয়েছেন তিনি। এখন বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের এসব চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটতরাজ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করছে ভুক্তভোগী জনসাধারণ।
অন্যদিকে নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্তে আওয়ামীলীগের চিহ্নিত ক্যাডার কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমকে বিএনপিতে স্থান দেওয়া নিয়ে নোয়াখালী বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলছেন বরকত উল্লাহ বুলু টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটতরাজসহ নোয়াখালীর অপরাধের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতেই আওয়ামীলীগের ভয়ংকর ক্যাডার কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমকে বিএনপিতে স্থান করে দিয়েছেন।
তবে এতকিছুর পরও নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেননা কারণ বরকত উল্লাহ বুলু বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে।
নেতাকর্মীদের এসব ক্ষোভের বিষয়ে এবং কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল, ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা আমাদের দলে যোগদান করছেন এবং করবেন এটাই বাস্তবতা। নির্বাচনকে সামনে রেখে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মী আশ্রয় চাইলে আমরাতো তাদের মেরে ফেলতে পারিনা। বিএনপি গণমানুষের দল, সবাইকে নিয়েই আমাদের রাজনীতি করতে হবে।