ই-পেপার | মঙ্গলবার , ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
×

নোয়াখালীতে চাঁদা না পেয়ে বিহারী যুবক কাশেমকে পেঠালেন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর

Oplus_0

অপরাধ করেও প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে পার পেয়ে যান

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের নাম ভাঙ্গিয়ে দলীয় অনুষ্ঠানের জন্য চাঁদা না দেওয়ায় নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলায় এক বিহারী যুবককে বেধড়ক পেঠানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার সোনাইমুড়ী পৌরসভার সোনাইমুড়ী বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় হামলার শিকার হওয়া যুবকের নাম আবুল কাশেম। সে পার্শ্ববর্তী বেগমগঞ্জ উপজেলার এখলাসপুর ইউপির ৩নং ওয়ার্ড এলাকার হাসেম মিয়ার বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে।

হামলার শিকার আবুল কাশেম সোনাইমুড়ী পৌরসভা এলাকার একজন রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ী এবং একজন সমাজকর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার হাত ধরে ২০২০ সালে এখলাসপুর সমাজ কল্যাণ সমিতির যাত্রা শুরু হয়, যেটি এলাকার গরীব ও অসহায়দের মাঝে স্বাস্থ্য সেবা সহ বিভিন্ন প্রকার সেবা প্রদান করে থাকে।

অপরদিকে হামলাকারী জাহাঙ্গীর হলেন, সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মামুনর রশীদ কিরন এমপির ক্যাডার হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, (২ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দোকানের বাইরে কাশেমের উপর হামলা চলাকালীন সময়ে কাশেমের চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শুনে পার্শবর্তী ব্যবসায়িরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় হামলাকারী জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারিরা কাশেমকে আহত আবস্থায় মাটিতে ফেলে চলে গেলে পরক্ষণে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেম

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে জানান, কাশেমের উপর হামলায় সরাসরি নেতৃত্ব দেন জাহাঙ্গীর। হামলা চলাকালীন লোকজন এগিয়ে আসলে চলে যাওয়ার সময় কাশেমকে হত্যার হুমকি দিতেও শুনা যায় জাহাঙ্গীরকে। মূলত সোনাইমুড়ী পৌর এলাকায় জাহাঙ্গীরের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়না। ফলে সে নিয়মিত মানুষের উপর অত্যাচার করতে থাকে এবং চাঁদা না দিলে মানুষকে মারধর করে। এর আগেও অনেক ব্যবসায়িকে সে মারধর করে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।

হামলার শিকার বিহারী যুবক আবুল কাশেম সিটিজি ভয়েস টিভিকে বলেন, জাহাঙ্গীর আকস্মিক ভাবে আমার দোকানে এসে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপনের নামে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সাথে সাথে তার গুন্ডা বাহিনীকে আমাকে মারধরের নির্দেশ দেয়। তারা তাৎক্ষণিক আমাকে মারধর শুরু করে এবং সেই সাথে জাহাঙ্গীরও আমাকে মারধর করেন। তাঁরা গত মার্চ মাসেও সে আমার কাছ থেকে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ৫ লাখ টাকা চাঁদা নেয়। সেই সময় চাঁদা কম দিতে চাইলে জাহাঙ্গীর আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। প্রকৃত পক্ষে প্রাণের ভয়ে আমি সেই সময় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য হই। আর এই টাকা সম্পূর্ণ আমার ম্যানেজার মোরশেদ আলম নিজ হাতে তার হাতে তুলে দেন। আমার ম্যানেজার এই ঘটনার স্বাক্ষী। এই জাহাঙ্গীর স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী ইত্যাদি উদযাপনের নামে সোনাইমুড়ী এলাকার ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে। তবে প্রাণের ভয়ে কেউ কোন ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেনা।

চাঁদা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যানেজার মোরশেদ আলম সিটিজি ভয়েস টিভিকে বলেন, যেহেতু জাহাঙ্গীর প্রভাবশালী, তাই তার কথায় রাজি হয়ে আমি মালিককে চাঁদা দিয়ে দিতে বলি। কারন চাঁদা না দিলে সে ব্যবসা করতে দিবেনা সেটা এখানকার সবাই জানে। তাই মালিকের কাছ থেকে নিয়ে গত মার্চ মাসে আমি নিজে জাহাঙ্গীর ভাইয়ের অফিসে গিয়ে ক্যাশ ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে আসি। কিন্তু আবারও কয়েক মাসের মাথায় তিনি চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদার জন্য গত বৃহস্পতিবার আমার মালিকের উপর হামলা চালান। আমি বাঁধা দিতে গেলে তিনি আমাকেও মারধর করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর বলেন, আমি কাউকে মারিনি এবং হামলাও করিনি। আমার বিরুদ্ধে এসব বানোয়াট অভিযোগ। তাছাড়া আমি কারো কাছ থেকো চাঁদাও দাবি করিনি। ঘটনার সিসি টিভি ফুটেজ আছে। এ বিষয়ে কি বলবেন প্রশ্নে জাহাঙ্গীর বলেন, প্রযুক্তির যুগে এসব এডিট করা যায়। মূলত এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। একজন বিহারী যুবক কেন আপনার সাথে ষড়যন্ত্র করবে এমন প্রশ্নে প্রতিবেদকের সাথে পরে কথা বলব বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে এ ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি থানা পুলিশ।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন আরফাত সিটিজি ভয়েস টিভিকে জানান, আবুল কাশেম নামের এক বিহারী যুবকের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব। দৃশ্যমান হামলার পরেও কেন সরাসরি মামলা নিচ্ছেননা? এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, সব কাজ একসাথে করা যায়না। আপনার বেশী কিছু জানতে ইচ্ছে হলে এমপি মহোদয়কে ফোন দিন। মামলা কেন হয়নি তার কাছ থেকে জেনে নিন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি স্থানীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরন। মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কাছ থেকে কোন প্রকার সাড়া পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট