ই-পেপার | সোমবার , ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
×

সাতকানিয়ায় কমিউনিটি সেন্টারে ঘুমন্ত অবস্থায় বাবুর্চির রহস্যজনক মৃত্যু

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

সাতকানিয়ার সোনাকানিয়ার মির্জাখীলে একটি কমিউনিটি সেন্টারে ঘুমন্ত অবস্থায় এক বাবুর্চির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে এসময় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে অপর আরেকজনকে। পুলিশের ধারণা অতিরিক্ত মদ্যপান অথবা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মির্জাখীল রয়েল পার্ক কমিউনিটি সেন্টারে উক্ত ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের নাম মোরশেদুল আলম (৪০), তিনি সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মির্জাখীল ছোট হাতিয়া বাদশার বাপের বাড়ীর আবদুল হাকিম এর পুত্র। অচেতন অবস্থায় উদ্ধারকৃত অপর ব্যাক্তির নাম জামাল উদ্দিন (৪১) তিনি একই ইউনিয়নের সাইরতলী পাড়ার বেদার সওদাগরের পুত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে রয়েল পার্ক কমিউনিটি সেন্টারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের বাবুর্চি হিসেবে নিযুক্ত মোরশেদুল আলম বিয়ের অনুষ্ঠানের রাতের সকল কার্যক্রম শেষে ফজরের নামাজের পূর্বে জামালসহ কমিউনিটি সেন্টারের ভিতরের রুমে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সকাল বেলা অন্যান্য লোকজন কাজ করার জন্য কমিউনিটি সেন্টারে আসলে রুমের ভিতর থেকে দরজা বন্ধ আবস্থায় দেখে তাদেরকে ডাক দেয়। তাদের কোন সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে দুজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। পরবর্তীতে তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোরশেদুল আলমকে মৃত্যু ঘোষণা করেন এবং মো: জামালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরন করেন। ধারনা করা হচ্ছে রাতে অতিরিক্ত মদ্যপান করার কারনে অথবা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই তাঁরা অচেতন হয়ে পড়েন।

নিহতের ছোটভাই মাইনুল ইসলাম মানিক সিটিজি ভয়েস টিভিকে বলেন, আমার জানামতে আমার ভাই এবং আমার ভাইয়ের সাথে ঘুমানো ব্যাক্তি কখনো কোন ধরনের নেশার সাথে যুক্ত ছিলোনা। কেনো তাদের এই ধরনের মৃত্যু সেটা বুঝতে পারছিনা। ভোর চারটার সময়ও আমার ভাই স্থানীয় এক মাংস বিক্রেতার সাথে কথা বলেছে বলে জানতে পেরেছি।

অচেতন অবস্থায় উদ্ধারকৃত জামাল উদ্দিনের ছোটভাই নেচার উদ্দিন সিটিজি ভয়েস টিভিকে বলেন, এখনো পর্যন্ত আমার ভাইয়ের জ্ঞান ফিরেনি। তিনি সিগারেট ব্যাতিত কোন ধরনের নেশার সাথে যুক্ত ছিলেননা কেনো এমন ঘটনা ঘটেছে বুঝতে পারছিনা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি এখনো পর্যন্ত অচেতন অবস্থায় আছেন অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ডাক্তারের পরামর্শে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার সিটিজি ভয়েস টিভিকে বলেন, কমিউনিটি সেন্টারের রুমের দরজা ভেঙ্গে অচেতন অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে অতিরিক্ত মদ্যপান অথবা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই এমনটা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর যথাযথ কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট