ই-পেপার | মঙ্গলবার , ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
×

মার খেয়ে কানাডায় পালিয়েও রেহাই পায়নি বিহারি যুবক কাসেম

এবার কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় পুলিশ খুজছে তাঁকে

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

বারবার চাঁদা দেওয়া ও হামলার শিকার হয়ে কানাডায় পালিয়ে গেছেন নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কাশেম। তবে এবার কানাডায় পালিয়ে গিয়েও রক্ষা পায়নি সে। সবশেষ গত ৪ই জুন ২০২৩ ইং তারিখে সোনাইমুড়ী থানায় তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর। মামলাটি ৪১/২৩ নং মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করা হয়। মামলায় আবুল কাশেমসহ আরো ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যরা হলেন, কাশেমের ভাই, তার স্ত্রী ও ম্যানেজার।

মামলার এজাহারে কাশেমের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে স্বৈরশাসক বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার অভিযোগ আনা হয়। এছাড়াও বাকিদের বিরুদ্ধে এই পোষ্ট শেয়ার ও কমেন্টের অভিযোগ এনে ২০১৮ সালের ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলা প্রসঙ্গে বাদী জাহাঙ্গীর আলম সিটিজি ভয়েস টিভিকে বলেন, কাশেম বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করেছে। আমরা আওয়ামী পরিবারের জন্য এটি কখনো মেনে নেওয়ার মত নয়। ভাই আমি বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেছি।

এদিকে এই মামলায় বাকিরা আদালত থেকে জামিন পেলেও কানাডায় থাকায় জামিন আবেদন করতে পারেননি কাশেম। ফলে গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাঁকে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সিটিজি ভয়েস টিভিকে আবুল কাশেম বলেন, আমি বেশ কয়েকমাস আগে থেকে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের কানাঘুষা শুনে আসছিলাম। তাঁরা বলাবলি করছিলো আমার কাছ থেকে আবারও নানা অযুহাতে চাঁদা চাইবে, না দিলে আমার উপর আবারও হামলা চালিয়ে প্রাণে মেরে ফেলবে। এছাড়াও প্রশাসনের সহযোগিতায় আমাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় আসামি করবে। এসব কথা শুনে আমি পালিয়ে কানাডায় চলে এসেছি। দেশে থাকতেও কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের অত্যাচারের শিকার হয়েছি। ভেবেছিলাম বিদেশে আসলে তার অত্যাচার থেকে বাঁচতে পারব। কিন্তু আমার ধারনা ভূল ছিল। সে আমাকে বিদেশেও শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেনা। আমি কখনো প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কোন ধরনের পোষ্ট করি নাই এবং আমার পরিবারের সদস্যরাও কখনো এসব পোষ্ট শেয়ার কিংবা কমেন্ট করেন নাই। আমাকে হয়রানি করার জন্য এসব জাহাঙ্গীরের সাজানো নাটক। সে হয়তো কিছু ছবি এডিট করে এই মামলাটি দায়ের করেছে। আশা করছি আদালত সেসব বুঝতে পারবে আর আমরা ন্যায় বিচার পাব।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাইমুড়ী খানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান সিটিজি ভয়েস টিভিকে বলেন, জাহাঙ্গীর যথাযথ তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলার আবেদন করেছে, সেজন্য আমরা মামলা নিয়েছি। আমরা কাশেমকে বিভিন্ন জায়গায় খুজেছি। শুনেছি সে কানাডায় পালিয়ে গেছে। আমরা ইন্টারপোল এর সাহায্য নিয়ে তাকে দেশে ফেরত আনার চেষ্টা করব। জাহাঙ্গীরের সাথে কাশেমের ব্যক্তিগত কোন্দলের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, তাদের মাঝে ব্যক্তিগত কোন্দল থাকলে সেটা আগের ওসি সাহেব জানবেন। আমি নতুন এসেছি। আমি মামলার আবেদন পেয়েছি তাই মামলা নিয়েছি। এই মামলার বাকি আসামীরা জামিন নিয়েছে। যেহেতু কাশেম জামিন নেয়নাই এবং বিদেশে পলাতক, অতএব আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার বিষয় দরখাস্ত দিব এবং তাকে দেশে ফেরত আনার চেষ্টা করব। বাকিটা আদালত আইনগত সিদ্ধান্ত নিবে।

এই ধরনের মামলার মেরিট সম্পর্কে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট এসএম দিদারুল আলম সিটিজি ভয়েস টিভিকে বলেন, থানার মামলা নেওয়ার অধিকার থাকলেও এই ধরনের মামলা সাইবার ট্রাইবুনালে দায়ের করা হয়ে থাকে। এই মামলাটি থানার নেওয়া উচিৎ হয়নি। যেহেতু মামলাটি থানার দায়ের করা হয়েছে সেহেতু বুঝাই যাচ্ছে কারো ইশারায় আইনের অপব্যবহার করে এই মামলাটি করা হয়েছে। কারন আইনের কিছু ধারা আছে যা ওসি সাহেবদের বুঝা উচিৎ। এ মামলা আদালতে আবেদন পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারত। তবে থানায় সরাসরি মামলা নেওয়া দেখে এটি স্পষ্ট যে, এ মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিকভাবে হেনস্তার জন্য করা হয়েছে। এছাড়ও ওসি সাহেব অতি উৎসাহী হয়ে এই মামলা নিয়েছেন। বাদী পক্ষের উচিৎ হবে মহামান্য হাইকোর্টে এই বিষয়টি নিয়ে রিট করা। তাহলে আদালত এর যথাযথ ব্যবস্থা নিবে এবং দেশে আইনের অপব্যবহার কমে যাবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট